হজ্জের নিয়ম কানুন সহ বিস্তারিত জেনে নিন

ইসলামের পঞ্চম স্তম্ব হচ্ছে হজ্জ্ব, যা ধনীদের উপর ফরজ করা হয়েছে। হজের নিয়ম কানুন না জানার কারনে অনেকেই হজে গিয়ে সমস্যায় পড়ে যান। তাই আসুন এখনই হজ্জের নিয়ম কানুন সহ বিস্তারিত জেনে নিই।

হজ্জ কখন করতে হয়

ওমরা হজ্জ্ব যেকোন সময় করা গেলেও আকবরী হজ্জ্ব হলো জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। জিলহজ্জ মাসের নয় তারিখে ইহরামসহ মক্কা শরীফে উপস্থিত থেকে খানায়ে কাবা তওয়াফ করা এবং আরাফার ময়দানে উপস্থিত হয়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট কাজ করাকেই হজ্জ বলে।

মদিনা জিয়ারত কি হজ্জের অন্তর্ভুক্ত?

না, হজ্জের পর মদিনা গমন করে দয়াল নবীর রওজা মোবারক জিয়ারত করা হজ্জের অন্তর্ভুক্ত নয়। কিন্তু আপনি অন্য দেশ থেকে মহান আল্লাহর বাড়ি পবিত্র মক্কা শরীফে যাবেন, হজ্জ্ব করবেন, এতো ভাল সুযোগ পেয়েও যদি আপনি দয়াল নবীর রওজা মোবারক না দেখে চলে আসেন, জিয়ারতটুকু করার প্রয়োজন মনে করেননা। আপনাকে বলে দিতে হয়- এটা হজ্জের অন্তর্ভুক্ত কিনা, যদি অন্তর্ভুক্ত না হয় – তাহলে যাবেননা বা জিয়ারত করবেননা। তাহলে আলেমে দ্বীনগনের মত হলো- আপনি নিমুক হারাম ও আপনি অকৃতজ্ঞ।

মসজিদে নববীতে নামায পড়া ও মায়ার নবীর রওজা পাক জিয়ারত করা অসীম সওয়াবের কাজ। যাক, হজ্জ্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি হজ্জে গমনের জন্য সক্ষম, তাহার প্রতি হজ্জ ফরজ।

হজ্জের প্রধান শর্ত কি

হজ্জের প্রধান শর্ত হলো- মুসলমান হওয়া, সুস্থ ও সজ্ঞান, বালেগ হওয়া, পবিত্র কাবা শরিফে যাতায়াত করার যাবতীয় খরচ বহন করার পর, কারো সাহায্যের নির্ভরশীল না হলে এবং পরিবারের খরচাদি চালানোর মতো সক্ষমতা থাকা। যাতায়াতের পথ নিরাপদ আছে তা নিশ্চিত হওয়া, নারীদের সঙ্গী হিসাবে মুহররম পরুষ থাকা।

হজ্জ কত প্রকার

হজ্জ ৩ প্রকার, ১) ফরজ হজ্জ ২) ওয়াজিব হজ্জ ৩) নফল হজ্জ।
১, যার প্রতি হজ্জ ফরজ করা হয়েছে, তার জন্য এটা ফরজ, যেমন আমরা যাকে আকবরী হজ্জ বলি। ২, কোন কাজ বা মনের আশা পুরন হওয়ার জন্য হজ্জের নিয়ত বা মানত থাকলে, তা আদায় করা ওয়াজিব। এটা ওমরাহ এর মাধ্যমেও করা যায়। ৩, যিনি ১ বার ফরজ হজ্জ করেছেন, তিনি আবারও করতে চান, বা যার জন্য হজ্জ ফরজ হয়নি, শুধু সওয়াবের আশায় হজ্জ করতে চাচ্ছেন, তার জন্য এই হজ্জ নফল।

হজ্জের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত গুলো কি

হজ্জের ফরজ সমুহ- ৩ টি, ১) ইহরাম বাধা, ২) খানায়ে কাবা তওয়াফ করা, ৩) আরাফাতের ময়দানে গমন করা।
হজ্জের ওয়াজিব সমুহ- ৫ টি, ১) মুজদালিফায় অপেক্ষা করা, ২) মিনায় পাথর নিক্ষেপ, ৩) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে দৌড়ানো, ৪) পুরুষ হলে মাথা ন্যাড়া করা, ৫) হজ্জ শেষে কাবাঘর বিদায়ী তওয়াফ করা।

হজ্জের সুন্নত সমুহ– ৬ টি,
১) ছতর ঢেকে তওয়াফ করা, ২) ইমামের পেছনে আরাফায় গমন করা, ৩) প্রথম তওয়াফ করা, ৪) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ৭ বার দৌড়ানো, ৫) মিনায় রাত্রি যাপন করা, ৬) শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর নিক্ষেপ করা।

আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিত্র কাবা শরিফ দেখার এবং হজ্জ করে আবার মদিনা মনোয়ারায় শায়িত প্রাণের নবীর রওজা শরীফ জিয়ারত করার তাওফিক দান করেন। ওয়ামা তাওফিক ইল্লা বিল্লাহ

আরও পড়ুন – মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়ার নিয়ম

Leave a Comment