বিসমিল্লাহ বলার বরকত ও ফজিলত কি

বিসমিল্লাহ বলার বরকত ও ফজিলত সম্পর্কে আলেমে দ্বীন ও ইসলামি স্কলারগণ অসংখ্য অগনিত সওয়াব বা বরকতের কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ইসলামিক কনফারেন্সে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করে শুধু বিসমিল্লাহর বরকত কি তা বলে গেছেন।

কোন কাজ শুরু করার পর্বে কি বলতে হয়

কোন হালাল কাজ শুরু করার পর্বে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে, ঐ কাজে আল্লাহর রহমত ও বরকত পাওয়া যায়। কোন কজই আল্লাহর রহমত ব্যতিত ভালভাবে সম্পন্ন করা যায়না। তাই কোন ব্যক্তি যদি বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করেন, এবং সম্পাদন শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলেন, ঐ কাজের উপর আল্লাহর জিম্মাদারী থেকে যায়।

বিসমিল্লাহ এর অর্থ কি

বিসমিল্লাহ আরবী শব্দ, তার অর্থ হলো- আল্লাহর নামে শুরু করলাম। অবশ্য পুরো তাসমিয়া পড়ে নেয়া উত্তম। তাসমিয়াটি হলো- বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। যার অর্থ- পরম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করলাম।

বিসমিল্লাহ বলার কারন কি

বিসমিল্লাহ বলার কারন, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা, এবং তার করুনা চাওয়া। আল্লাহর হুকুমতের ব্যপারে নিজকে আত্মসমর্পণ করা। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনার হুকুম ও করুনা ব্যতিত আমি অসহায়। আমাকে আমার নিজ কর্মকে সঠিকভাবে সম্পাদন করার ক্ষমতা দিন। আপনার করুনা ব্যতিত আমি এই কাজ শেষ করার ক্ষমতা আমার নাই।

বিসমিল্লাহ বলার বরকত কি

বিসমিল্লাহ বলে যখন কোন হালাল কাজ করবেন, প্রথমত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকবে, মহান আল্লাহর নেক দৃষ্টি ও বরকতে নিয়োজিত ফেরেশতাগনকে হুকুম দিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এই কাজ শেষ না হয়, ততক্ষণ যেন তারা পাহারায় থাকে। শয়তানসহ সহ সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে আল্লাহ তাআলা তার ফেরেস্তা দিয়ে নিরাপদ রাখবেন।

কোন কোন কাজে বিসমিল্লাহ বলতে হয়

যেকোন হালাল কাজে বিসমিল্লাহ বলতে হয়, তাছাড়া খাবারের শুরুতে, বৃক্ষ রোপনের শুরুতে, গাড়ি চালানোর শুরুতে, তেলাওয়াতের শুরুতে, লেনদেন, স্ত্রী-মিলন, ব্যবসা-বানিজ্য, ভাষন-বক্তব্য দেয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলে নিতে হয়। ইসলামের সৌন্দর্যের মধ্যে এটাও একটি অপরুপ সৌন্দর্য যে আমরা কোন কিছু করার আগে বিসমিল্লাহ বলে নিই।

কেন বিসমিল্লাহ বলতে হয় জানেন?

শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে, এবং আমাদের কর্ম থেকে যেন সৃষ্টিকুলের কোন অনিষ্ট না হয়, সেজন্য রবের নিকট সাহায্য চাইতেই আমরা প্রত্যেক কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলি। তারপর ঐ কাজ যেন আমাদের জন্য কল্যানকর হয়, এবং কাজটি করতে যেন কোন প্রকার দূর্ঘটনা না হয়, সেজন্য রবের নিকট ফানাহ চাওয়ার জন্য এই দোয়াটি পড়ি।

যদি বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস না থাকে তাহলে প্রথম প্রথম ভুল হতে পারে, যদি ভুলে যান তাহলে, যখনই মনে পরবে তখনই পড়ে নিবেন। এক পর্যায়ে দেখবেন বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস চালু হয়ে যাবে। এই অব্যাসের বিনিময়ে শুধু বরকত ই নয়, কেয়ামতের দিন এটাও আপনার নাজাতের মাধ্যম হতে পারে। আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করার তাওফিক দেন। আমিন

আরও পড়ুন – সূরা ফাতিহার গুরুত্ব ও ফজিলত কি

Leave a Comment